এপিজে বাংলা সাহিত্য উৎসব। প্রথম পর্ব

বাংলা ভাষার গল্প, কবিতা, উপন্যাস, সিনেমা, নাটক , সব মিলিয়ে এক অভূতপূর্ব অধিবেশন এর আয়োজন করা হয়েছিল, এই বছরের এপিজে বাংলা সাহিত্য উৎসবে। তৃতীয় বছরে পদার্পনকারী এই উৎসব, বাঙালির খুব কাছের এবং খুবই প্রিয়।তাই প্রথম বছর থেকেই এই উৎসব শুধুই জনপ্রিয়তা পেয়েছে তাই নয়,বিশ্ব সাহিত্য চর্চায় এর প্রভাব ছড়িয়েছে অনেকখানি।

এই বছরের সাহিত্য উৎসবের দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানের প্রথমেই, বাংলা ভাষায় কুইজ সকলের নজর কেড়েছিল। কুইজ মাস্টার সৌরভ রঞ্জন দত্তর অবদান তাতে অনস্বীকার্য, বাংলা সাহিত্য ভিত্তিক প্রশ্নের তালিকা ভাবিয়ে তুলেছিল প্রতিযোগিদের। এরপর ভ্রমণরসিক বাঙালির প্রসঙ্গে,

ভ্রমণপিপাসু ভাবনার কথা তুলে ধরলেন নন্দিতা বাগচী, শঙ্কর বোস ও রঙ্গন দত্ত, সঞ্চালনায় ছিল সোমেন সেনগুপ্ত। বাঙালি শুধুমাত্র ভ্রমণরসিক নয়, ভ্রমণপাগল, আর রহস্যপিপাসু।তাই বারবার বাঙালি ফিরে গিয়েছে হিমালয়ের কোলে। বাঙালির ভ্রমণপ্রিয় মনোভাব আজকের নয়, সেই আবুল ফজলের লেখায় ও পাওয়া গেছে এর কথা।

এরই পরবর্তী অধিবেশনে এসেছে ভোজনরসিক বাঙালির প্রসঙ্গ। এশা চ্যাটার্জীর সঞ্চালনায়, শিলাদিত্য চৌধুরী, রাজীব ঘোষ ও বিকাশ মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য ছাপ ফেলেছে ভোজনরসিক মনে। বাঙালি মাত্রই ভোজনপ্রিয় কিনতু একটা কথা আছে না, “খালি পেটে ধর্ম হয় না”, তা ও সত্যিই বটে। ৪০ এর দশক থেকে আজও, বাঙালি তার ভোজনরসিকতা ভোলেনি, তার খাদ্যপ্রীতি, আজও তাকে করে তোলে অনন্য।

 

 

এরপর গানে গল্পে পঞ্চকবির গান পরিবেশনায় পরমা দাশগুপ্ত ছিলেন অতুলনীয়, কথনে শ্যামলী আচার্য এর ভূমিকাও উল্লেখযোগ্য।

এরপর ছিল, সবথেকে আকষর্ণীয় অধিবেশন , ‘অর্ধশতক পেরিয়ে’ ।ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায়ের সঞ্চালনায় শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় ও সমরেশ মজুমদারের উপস্থিতিতে বাঙালি সাহিত্য ভাবনার কথা তুলে ধরা হলো। অর্ধশতক পেরিয়ে এই দুই লেখক আমাদের বিভিন্ন প্রজন্মকে নিজেদের লেখনীর মাধ্যমে অনুপ্রাণিত করেছেন।এনাদের সাহিত্য সৃষ্টি আমাদের বাঙালির কাছে খুবই গর্বের। এই আলোচনা বাংলা সাহিত্য উৎসবের অন্যতম সেরা পর্যায়।

 

 

এরপরের প্রসঙ্গ ছিল , ‘কমবয়সীরা বাংলা পড়া ছেড়ে দিচ্ছে’ ,পিউ রয়ের সঞ্চালনায় সুবোধ সরকার, চুমকি চট্টোপাধ্যায়, রূপা মজুমদার ও শুভঙ্কর দে এর বক্তব্যে প্রাধান্য পেয়েছে কমবয়সীদের বাংলা চর্চার কথা। এখনকার ছোট্ট ছেলেমেয়েরা অন্য ভাষার প্রাধান্য দিতে গিয়ে নিজের মাতৃভাষা ভুলতে বসেছে।এটা শুধুমাত্র তাদের ভুল নয়,সমাজের গাফিলতি।

এরপর এর অধিবেশন প্রসঙ্গ -‘এখন কমিক্সই সাহিত্য!’বক্তব্য রেখেছেন সুযোগ বন্দ্যোপাধ্যায়, অমৃতা চট্টোপাধ্যায়, ঋদ্ধি সেন,জুরান নাথ। কমিক্স এবং সাহিত্য দুই বিষয় একে অপরের পরিপূরক । এখনকার যূগ কমিক্স দেখে সাহিত্য শিখছে ।তাই সাহিত্য বাঁচাতে কমিক্স অনেকটাই দরকার।

এরপর আসে নাটকীয় সাহিত্যের প্রসঙ্গ।প্রচেত গুপ্তের সঞ্চালনায় নাটকের প্রসঙ্গে মেতে উঠলেন ব্রাত্য বসু,অরিন্দম গাঙ্গুলী,বিভাস চক্রবর্তী। সাহিত্য বলতে নাটকীয়সাহিত‍্যের কথা আসবেই, তবে সব নাটক সাহিত্য নয়।তবে নাটক সমৃদ্ধ করতে সাহিত্যের ভূমিকা অনেক, নাটক অনেক ভাবে উন্নত করে বা‌ঙালির সাহিত্যকে।

সব মিলিয়ে বাংলা সাহিত্য সমৃদ্ধি লাভ করেছিল এদিন এপিজে প্রাঙ্গনে, গুণময় ব্যক্তিত্ত্বদের উপস্থিতিতে,আমরা সমৃদ্ধ হয়েছি এবং শুধু তাই নয় আরও মর্যাদাপূর্ণ হয়ে উঠেছিল এই উৎসব।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

IMG_3953-2

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s